পহেলা বৈশাখ, ১৪০৮ এ, নিত্য উপহারের দেশীয় ঘরানার টি-শার্টগুলো প্রথম পৃথিবীর মুখ দেখেছে। দেশের স্বনামধন্য দুই চারুশিল্পী- ধ্রুব এষ এবং সব্যসাচী হাজরা’র শিল্পকর্মে আমাদের দেশীয় ঘরানার টি-শার্টগুলোর প্রথম দৃশ্য-রূপ তৈরি হয়েছিলো আজ থেকে ২৫ বছর আগে।
সেই প্রথম দিন থেকেই শুরু- এই টি-শার্টগুলো আপনাদের গায়ে চেপে, আপনাদের সাথেই ছড়িয়ে পড়েছে দেশের পথে প্রান্তরে, কলেজে, ক্যাম্পাসে- প্রাতভ্রমণ বা প্রাত্যহিক চায়ের আসরে, গণিতের গোলাক ধাঁধায়, কখনো হিমালয় চূঁড়ো, কখনো বঙ্গপোসাগরের উর্মিমালায়। আপনাদের সাথেই ঘুরেছে। বলা যেতে পারে, নিত্য উপহার ঠিক কী ধরণের টি-শার্ট করতে চায়- যেন প্রথম দিনের এই টি-শার্টগুলো তারই ইশারা ইঙ্গিত। এটাকে আমরা বলেছি ‘সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ব্যাক্তিত্ব ধারাবাহিক’।
১৪০৭ বঙ্গাব্দ, চৈত্রের শেষ ক’দিন- ছাপাখানার ভুত, ভূতের নাকানি চুবানি, আর কত যে জল্পনা-কল্পনা ও পরিকল্পনা শেষে চারুকলা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায়- মোল্লার দোকান লাঘোয়া প্রদর্শনী স্থান তৈরি হলো। সেবারও যথারীতি রমনার বটমূলে ছায়ানট এর বর্ষবরণ, বৈশাখের শোভাযাত্রা, দূর দূরান্তে আরো কতো আয়োজন। আর আমাদের নিত্য উপহারে- দুরুদুরু বুক, না জানি কি হয়! ছিলেন সব্য, অনুপম, তনুজা, রাজিব, ওয়াসিফ, নিজার, নীলিম, মাসুম, টুটুল, সুমনসহ শুভার্থী তরুণদলে আরো অনেকেই ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্য।
এই হল নিত্য উপহারের টি-শার্টের প্রথম দিন।
পরবর্তি তিন বছর, ভাষা দিবস বা পহেলা বৈশাখে নিত্য উপহারের নতুন টি-শার্ট গায়ে পরে যেন এক স্বপ্ন সারথি লড়াকু তরুণদল! সকালের কোমলতায়, কখনো নিজ হাতে টি-শার্ট প্যাক করে- কখনো টি-শার্টের কার্টুন মাথায় করে নিয়ে গিয়ে, জাতীয় যাদুঘর বা চারুকলার সামনের রাস্তায়, আবার কখনো টিএসসি’র সড়ক দ্বীপে দাঁড়িয়ে নতুন এই টি-শার্ট ভাষার প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। আজিজ মার্কেট থেকে বৈশাখের মিলন মেলায় যাওয়ার আগে তাঁদের কেউ একজন বলছিলেন- ‘ভাই আপনি কিন্তু ওইদিকে আইসেন না, খবরদার, আমরা আছি’!
রোদে পোড়া ক্লান্ত মুখগুলো, সেদিন গ্রীষ্ম দুপুরের তপ্ত রোদে নিজেদের ঝলসিয়ে পড়ন্ত বিকেলে আমীরুল রাজিব, মুনেম ওয়াসিফ, সৈয়দ নিজার, মাসুম, নীলিম- স্বপ্ন সারথিদের নিত্য উপহারে ফিরে আসা! এইতো সেদিন! তখন তো মাঝে মাঝে আমরা মেঝেতেই বসে পড়েছি অনায়েসে! চতুর্থ বছর শেষবার আমিনুল ইসলাম তুহিন ও তাঁর দল নিত্য উপহারের টি-শার্টের প্রচার-প্রসারের এই কঠিন কাজে যুক্ত হয়েছিলেন।
প্রায় দুই যুগ পর, আপনারা হয়তো আজ অন্য কর্ম-বিশ্বে নিমজ্জিত, অন্য কোন অসংগতি মেটাতে সচেস্ট রয়েছেন, রয়েছেন নতুন কোন সৃজনশীলতার দিগন্তে বা ঝড়ে ডাল ভাঙা কোন গছের পরিচর্যায় ব্যাস্ত। জানবেন আপনাদের প্রতি নিত্য উপহারের অশেষ ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। নিত্য উপহারের দেশীয় টি-শার্ট চর্চার শুরুর দিকে আপনারই প্রথম ভালোবেসেছিলেন, সবচেয়ে কঠিনতম ধাপটা পার হতে স্বতঃপ্রনোদিত হাত বাড়িয়েছিলেন। এটাই হয়তো সংস্কৃতির শক্তি। পাখিতো নিজের স্বাভাবে গান গায়- বাকি সবই নিমিত্ত মাত্র!
আজ সেই প্রথম দিনের সকল ক্রেতা, নানা পর্যায়ে পর্দার পেছনে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, যাঁদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি এখনো তাঁদের সবার প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা। আপনারাই বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংরক্ষক।

