টি-শার্ট গায়ে দিয়ে জীবন কেটে যাচ্ছে আমার। চাকরি, অফিস, ব্যবসা, মিটিং। টং দোকান থেকে ফাইভস্টার হোটেল। ঘরে বাইরে, দেশে বিদেশে, মোটরসাইকেল উড়োজাহাজ কোথাও কোনদিন টি-শার্ট গায়ে দিয়ে আনইজি লাগেনি। বরং এখনো বহু জায়গায় দামি শার্ট পরেও উশখুশ করতে থাকি আমি।আমার গায়ে দেয়া টি-শার্টের অন্তত ৯৫ ভাগই নিত্য উপহারের।সবসময় শুধুই নিত্য উপহারের টি-শার্টই পরে থাকি তা নয়, তবে টি-শার্টের কালার আর বুকের উপর থাকা ছাপটাকে নিয়ে খুবই খুঁতখুঁতে আমি। সমাধান দিয়েছিলো নিত্য উপহার।
আমার জীবনের গত ১৯/২০ বছরে এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।২০০৫/৬ থেকে, আজিজ মার্কেট দিয়ে শুরু। এখন মোহাম্মদপুর থেকে কিনি বেশি। কারণ ২ টা— মোহাম্মদপুরের শো-রুম হাতের কাছে হয় আর গেলেই বাহার ভাইয়ের (নিত্য উপহারের কর্ণধার বাহার রহমান) সাথে দেখা হয়। বাহার ভাইয়ের বাড়িও মোহাম্মদপুর, শুরু থেকেই এখানে একটা শোরুম আছে। যদিও আজিজ মার্কেটের ঠিকানা নিত্য উপহারের ল্যান্ডমার্ক। বাহার ভাই মোহাম্মদপুরেই বসেন, গেলেই দেখা হয়।
নিত্য উপহারের সাথে পরিচয় ২০০৫ সালে, বাহার ভাইয়ের সাথে খাতির জমেছে ২০১২ সালে। মাছরাঙা টিভিতে জয়েন করার পর জীবনের ১ম ডকুমেন্টারি বানাতে গিয়ে। পহেলা বৈশাখে শাড়ি নিয়ে একটা ডকুমেন্টারির জন্য বাহার ভাইয়ের একটা ইন্টারভিউ নিলাম। বাংলার শাড়ি চিরকাল আবহমান বাংলার আর্ট আর কালচারের বাহক হিসেবে কাজ করেছে, তার মুখ থেকে কথাটা জেনে সেদিন সচেতনভাবে উপলব্ধি করেছিলাম।
টি-শার্টকে আর্টের ক্যানভাস করে তোলার এই আইডিয়াটাই বাহার রহমানের প্রতি আমার আগ্রহের কারণ। একদিন তিনি বললেন—আপনারা যারা এখনো নিত্য উপহারের টি-শার্ট পরেন, ঘুরে বেড়ান— আপনারা সবাই এক এক জন বাংলাদেশী শিল্পের সংরক্ষক (আর্টের কিউরেটর)। একটা চলমান ক্যানভাস নিয়ে ঘুরছেন আর মানুষের কাছে বাংলাদেশী শিল্প-সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিচ্ছেন। কথাটা খুবই পছন্দ হয়েছে আমার, সেই সাথে কাজটাকেও। সত্যিইতো, বিনা কারণে সেধে কেউ এখন আর আর্টের ধার ধারেনা।সচেতন বা অসচেতন যাই হোক টি-শার্ট আর আর্টের এই কম্বিনেশনটাই বোধ হয় আমার লাইফস্টাইলকে সহজ করেছে।
প্রায় ২ মাস পরে গেলাম নিত্য উপহারে, ঈদের পরে আরকি। ঈদও কেটেছে টি-শার্টেই । নতুন কালেকশন কি আছে দেখতে, বর্ষার ২ টা নতুন টিশার্ট পেলাম। সাথে পেলাম ছোট একটা ছাপা চিরকুট। তাদের ২৫ বছরের পথচলায় সাথে থাকার জন্য একটা ধন্যবাদ। অদ্ভুতুরে এক আনন্দ বোধ করছি।
বাহার ভাই ধন্যবাদ আপনাকে। চকচকে শার্ট-কোর্টের যুগে আমার মতো চির ক্যাজুয়াল একটা মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য, স্টাইল না করেও একটা লাইফস্টাইল দেয়ার জন্য। নিজে গায়ে দিয়ে ঘুরছি, নতুন প্রজন্মকে জানানোর চেষ্টা করছি। AI-এর এই যুগে যতদিন পারা যায় ছোট্ট ক্যানভাসে বড় স্বপ্ন ও বাংলার আবহমান সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাই চলুন।

